১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের শহীদেরা

ভাষা আন্দোলনে অনেকেই শহীদ হয়েছেন। তাদের অনেকেরই লাশ গুম করে ফেলার কারনে খুঁজে পাওয়া যায় নি। যাদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিলো তাদের মধ্যে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার এর নামই বেশী শোনা বা পাঠ করা যায়। বাংলা একাডেমী ও ভাষা-আন্দোলন মিউজিয়াম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ছয় শহীদের তথ্য এখানে যুক্ত একত্রিত করলাম। এই ছয় জনকে নিয়ে ছয়টি পোস্ট দিয়েছিলাম সামুতে ২০১১ সালে। কিন্তু কোন নোটিশ ছাড়াই সামু আমার একাউন্ট বন্ধ করায় সেগুলো হারিয়ে গেছে।

শহীদ আব্দুস সালাম
শহীদ আব্দুস সালাম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। গ্রাম- লক্ষনপুর, উপজেলা-দাগনভূঁইয়া, জেলা- ফেনী। পিতার নাম- মোঃ ফাজিল মিয়া, মাতার নাম- দৌলতুন্নেসা। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে আব্দুস সালাম ছিলেন সবার বড়। তিনি দাগন ভুঁইয়ার করিমউল্লাহপুর হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর কামাল আতাতুর্ক বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হলেও পারিবারিক কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেন নি। অতঃপর চাচাতো ভাই আবদুল হালিমের সহায়তায় ঢাকা চলে আসেন। ৮৫ দিলকুশাস্থ “ডাইরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রুজ” এ করনিক পদে চাকুরী নেন। শহীদ আব্দুস সালাম ২১শে ফেব্রুয়ারীর বিক্ষোভে অংশগ্রহন করে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে গুলীবিদ্ধ হন। তখন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেড়মাস পরে ৭ এপ্রিল সকাল ১১টায় তিনি মারা যান।

শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ এর জন্ম ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর। গ্রামের নাম-পারিল (বতর্মানে যার নামকরন করা হয়েছে রফিকনগর), থানা- সিংগাইর, জেলা- মানিকগঞ্জ। তার পিতার নাম- আব্দুল লতিফ, মাতার নাম- রাফিজা খাতুন। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে রফিক উদ্দিন আহমদ ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবার বড়। তিনি মানিকগঞ্জ বায়রা কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজে আই কম পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। কলেজের পাঠ ত্যাগ করে ঢাকায় এসে পিতার সঙ্গে প্রেস পরিচালনায় যোগ দেন। ২১শে ফেব্রুয়ারীতে শাসকগোষ্ঠীর জারীকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যে বিক্ষোভ মিছিল হয় সেখানে তিনি অংশগ্রহন করেন।পুলিশের বেদম লাঠিচার্জ ও কাদানে গ্যাসের কারনে অন্যান্যদের সাথে তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে আশ্রয়গ্রহন করতে যান। এ সময়ে পুলিশের একটু গুলী সরাসরি তার মাথায় আঘাত হানে ও তিনি সাথে সাথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সম্ভবত ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রথম শহীদ হওয়ার মর্যাদা রফিক উদ্দিন আহমদই লাভ করেন। তাকে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। তবে দুঃখজনকভাবে পরবর্তীতে তার কবর চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নি।

শহীদ আবুল বরকত
শহীদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৬ জুন ভারতীয় উপমহাদেশের (অবিভক্ত) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন মৌলবী শামসুদ্দীন সাহেবের জ্যেষ্ঠপুত্র। ১৯৪৫ সালে তালেবপুর হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশের পর তিনি বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সে ভর্তি হয়ে ১৯৫১ সালে অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে চতুর্থ স্থান লাভ করেন। এরপরে তিনি একই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। ভালো ছাত্রের পাশাপাশি তিনি স্বভাব-চরিত্র ও ব্যবহারে ছিলেন অমায়িক। ২১শে ফেব্রুয়ারীর দিন আবুল বরকত মেডিকেল কলেজের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায় দাড়িয়ে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।এ সময় মিছিলে ছোড়া পুলিশের একটি গুলি তার গায়ে এসে লাগে ও তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত আবুল বরকতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। সেদিনই গভীর রাতে পুলিশের কড়া প্রহরায় শহীদ বরকতের লাশ আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। পরে বরকতের পারিবারিক খরচে তার কবর পাকা করা হয়।

শহীদ আব্দুল জব্বার
শহীদ আব্দুল জব্বার ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহন করেন। গ্রাম- পাঁচুয়া, থানা- গফরগাঁও, জেলা- ময়মনসিংহ। তার পিতার নাম- মোঃ হাসেম আলী শেখ, মাতার নাম- সাফিয়া খাতুন। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করার পরে পারিবারিক কারনে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতার কৃষিকাজে সাহায্য করা শুরু করেন। ১৫/১৬ বছর বয়সে তিনি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে সকলের অজান্তে একদিন গৃহত্যাগ করে ট্রেনে চেড়পে নারায়নগঞ্জ আসেন। সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্য লাভ করেন। সাহেবের অনুগ্রহে একটি চাকরি লাভ করে বার্মায় গমন করেন। ১০/১২ বছর বার্মায় থাকার পরে তিনি দেশে চলে আসেন। দেশে এসে নিজ গ্রামে তিনি দৈনন্দিন জিনিসপত্রের ছোটখাট একটি দোকান দেন। এরপর তিনি আমেনা খাতুন নামে এক মেয়েকে বিবাহ করেন ও এক পুত্র সন্তানের পিতা হন। সন্তানের নাম রাখেন নুরুল ইসলাম বাদল। ২১শে ফেব্রুয়ারীর একদিন আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ীকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা নিয়ে আসেন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ২১শে ফেব্রুয়ারীর দিন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে ছাত্র-জনতার মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন ও স্লোগান দেন। মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলীবর্ষনে তিনিও আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারাদিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে রাতে তিনি মারা যান। তাকে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

শহীদ শফিউর রহমান
শহীদ শফিউর রহমান অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের হুগলী জেলার কোন্নগর গ্রামে ১৯১৮ সালের ২৪ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মৌলবী মাহবুবুর রহমান। তিনি কলকাতা গভর্ণমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ থেকে আই কম পাশ করেন। পারিবারিক কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেন নি। পরে ঢাকায় তিনি হাইকোর্টে করনিক পদে চাকুরী নেন। ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী শফিউর রহমান সকাল ১০টায় বাইসাইকেলে চড়ে ঢাকার ৬ নং রঘুনাথ দাস লেনের বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঐ দিন সকাল ১০টার কিছু পরে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। পুলিশ ঐ বিক্ষোভে গুলী চালালে একটি গুলী শফিউর রহমানের পৃষ্ঠদেশ ভেদ করে বের হয়ে যায় ও তিনি তাৎক্ষনিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয় এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি হাসপাতালেই মারা যান। মরহুম শফিউর রহমানের লাশ আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর না করে তার ৩টায় পুলিশের তত্বাবধানে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। শফিউর রহমানের মৃত্যুর ৩ মাস পরে তিনি একটি পুত্র সন্তানের বাবা হন।

শহীদ অহিউল্লাহ
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের তালিকায় একজন নয় বছরের নাবালক ছেলে রয়েছে, যার নাম হলো অহিউল্লাহ। তিনি ছিলেন জনাব হাবিবুর রহমানের ছেলে। হাবিবুর রহমান পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন। ২২শে ফেব্রুয়ারী নবাবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশ গুলীবর্ষন করে। নবাবপুর রোডের খোশমহল রেস্টুরেন্টের সামনে দাড়ানো অহিউল্লাহর মাথায় সরাসরি গুলী আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। ২৩শে ফেব্রুয়ারীর ১৯৫২ তারিখের দৈনিক আজাদে অহিউল্লাহর শহীদ হওয়ার খবর ছাপানো হয়। পুলিশ তার লাশ গুম করে ফেলায় তার কবরের কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।

Timeline of Bangladesh Liberation War

The Liberation War of Bangladesh had been started on March 26, 1971 and has ended on December 16, 1971. Some of the major events of the war are listed in the timeline below.

Events before the war

  • March 1: General Yahya Khan calls off the session of National Council to be held on March 3 in a radio address.
  • March 7: Sheikh Mujibur Rahman – leader of Awami League party that had won a landslide victory in East Pakistan in the Federal Elections in 1970, but never been granted authority – announces to a jubilant crowd at the Dhaka Race Course ground, “The struggle this time is the struggle for our emancipation! The struggle this time is the struggle for independence!”.
  • March 9: Workers of Chittagong port refuse to unload weapons from the ship ‘Swat’.
  • March 10: Expatriate Bengali students demonstrate in front of the United Nations Headquarters and calls for UN intervention to put an end to violence on Bengali people.
  • March 16: Yahya Khan starts negotiation with Sheikh Mujibur Rahman.
  • March 19: Nearly 50 people die as Pakistan Army opens fire on demonstrators at Jaydevpur.
  • March 24: Pakistan Army opens fire on Bengali demonstrators in Syedpur, Rangpur and Chittagong. More than a thousand people are killed.

Events during the war
March 1971

  • March 31: Kushtia resistance begins.
  • March 27: Independence of Bangladesh is again declared by Maj. Ziaur Rahman on behalf of Father of the Nation Bongobondhu Sheikh Mujibur Rahman.
  • March 26: At 1.15 AM, Sheikh Mujibur Rahman is arrested by the Pakistani 3 commando unit. Independence of Bangladesh is declared by Father of the nation BongoBondhu Sheikh Mujibiur Rahman few minutes before he was arrested by Pakistani occupation army. At 2.30 pm Independence of Bangladesh was declared by Awami league leader of Chittagong M. A. Hannan on behalf of Bongobondhu Sheikh Mujibur Rahman from Kalurghat. This is Bangladesh’s official Independence Day.
  • March 25: Pakistan Army starts Operation Searchlight in Dhaka and rest of the country, attacking general civilians, political activists, students, and Bengali members of armed forces and police.

April 1971

  • April 2: Jinjira massacre.
  • April 6: The Blood Telegram
  • April 11: Radio address by Tajuddin Ahmad, the Prime Minister.
  • April 10: A provisional Bangladesh government-in-exile is formed.
  • April 12: M. A. G. Osmani takes up the command of Bangladesh Armed Forces.
  • April 17: A provisional government-in-exile took oath in Baidyanathtala (now called Mujibnagar) in Meherpur District.
  • April 18: Battle of Daruin, Comilla and Battle of Rangamati-Mahalchari waterway, Chittagong Hill Tracts.
  • April 24: Formation of Bangladesh Action Committee at Coventry, UK by non-resident Bangladeshis.
  • April 28: Tajuddin pleas for arms aid to neighbors.

May 1971

  • May 5: Gopalpur massacre.
  • May 15: Indian army starts aiding Mukti Bahini.
  • May 20:The Chuknagar massacre takes place at Khulna where the Pakistan army kills nearly 10 thousand people.
  • May 24: Swadhin Bangla Betar Kendra finds home in Kolkata.

July 1971

  • July 11–17: Sector Commanders Conference 1971.

August 1971

  • August 1: The Concert for Bangladesh in Madison Square Garden, New York by George Harrison and friends.
  • August 16: Operation Jackpot, Bangladesh naval commando operation.
  • August 20: Flight Lieutenant Matiur Rahman’s attempt to defect by hijacking a fighter.
  • August 30: Pakistan Army crackdown on Dhaka guerrillas.

September 1971

  • September 5: Battle of Goahati, Jessore.
  • September 28: Bangladesh Air Force starts functioning.

October 1971

  • October 13: Dhaka guerrillas kill Abdul Monem Khan, governor of East Pakistan.
  • October 28: Battle of Dhalai Outpost, Srimongol.
  • October 31 to November 3: Battle of Dhalai: Indian attack from Tripura into East Pakistan to stop Pakistani cross-border shelling.

November 1971

  • November 9: Six small ships constitute the first fleet of Bangladesh Navy.
  • November 16: Battle of Ajmiriganj, an 18-hour encounter between Mukti Bahini and Pakistan army. A famous freedom fighter, Jagatyoti Das, is martyred.
  • November 20 to November 21: Battle of Garibpur: Indian attack in Boyra salient in East Pakistan
  • November 21: Bangladesh Armed Forces is formed.
  • November 22 to December 13, and sporadic fighting to December 16: Battle of Hilli: Indian attack on Bogra in East Pakistan.

December 1971

  • December 3: Bangladesh Air Force destroys Pakistani oil depots. Pakistani air attacks on India result in India declaring war on Pakistan.
  • December 4 : Battle of Longewala; Indians stop a Pakistani invasion directed at Jaisalmer.
  • December 5 : Battle of Basantar; Indians attack and take over Pakistani territory opposite Jammu.
  • December 6: Bhutan becomes the first country to recognize Bangladesh after India. Swadhin Bangla Betar Kendra becomes Bangladesh Betar.
  • December 7: Liberation of Jessore, Sylhet and Moulovi Bazar.
  • December 8: Operation Python: Indian naval attack on Karachi, West Pakistan.
  • December 9: Battle of Kushtia: Indian attack from West Bengal into East Pakistan. Chandpur and Daudkandi liberated.
  • December 10: Liberation of Laksham. Two Bangladeshi ships sunk mistakenly by Indian air attack.
  • December 11: Liberation of Hilli, Mymenshingh, Kushtia and Noakhali. USS Enterprise is deployed by the USA in the Bay of Bengal to intimidate Indian Navy.
  • December 13: Soviet Navy deploys a group of warships to counter USS Enterprise.
  • December 14: Selective genocide of Bengali nationalist intellectuals. Liberation of Bogra.
  • December 16: End of the Bangladesh Liberation War. Mitro Bahini takes Dhaka. East Pakistan Army surrenders to Mitro Bahini represented by Jagjit Singh Aurora of the Indian Army faction of the military coalition.
  • December 22: The provisional government of Bangladesh arrives in Dhaka from exile.

reference: wikipedia

১৯০৫ সালের বংগভংগ ও আজকের বাংলাদেশ

আমাদের ইতিহাসটা এখনও ভাল করে জানেনা আমাদের নতুন প্রজন্ম, আমাদের  অনুজ ও সন্তানেরা। এটা যে কোন জাতির জন্যে সত্যিই বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়। আমাদের জাতির সব কিছুই

দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা বাংগালী না বাংলাদেশী তা আজও সুস্পস্ট নয়। আমাদের জাতিসত্বা আজও সুস্পস্ট ভাবে নির্ধারিত হয়নি। বিষয়টি খুবই সহজ, কিন্তু এক শ্রেণীর রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও এনজিও নেতা আমাদের জাতিসত্ত্বা বিষয়টা বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকিয়ে রাখার ব্যাপারে সদা সচেস্ট। এরা বিদেশীদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরা আমাদের স্বাধীনতার মূল ইরিহাসকে বিকৃত করার কাজে লিপ্ত। বংভংগের ইতিহাস নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে হাল সময়ের কথা গুলো বলে নিলাম। ১৯০৫ সালে নিখিল বংগ বা অখন্ড বংগদেশ রাজ্য বা প্রদেশ থেকে আলাদা করে  পূর্ববংগ ও আসামকে নিয়ে একটি প্রদেশ গঠণ করা হয়। ইংরেজরা এ কাজটা করেছেন নিজেদের প্রশাসনিক স্বার্থে। পূর্ব বংগ বা পূর্ব বাংলার নিপীড়িত জন সাধারন ইংরেজদের এই উদ্যোগকে সমর্থন করে। আসাম পূর্ববংগের প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়। উল্লেখ্য যে, ১৬০৮ বা ১০ সালে অখন্ড বংগদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়। জনপদ হিসাবে ঢাকা একটি বেশ প্রাচীন এলাকা। এখানে ঢাকেশ্বরী মন্দির স্থাপিত হয়  পাশেই বুড়িগংগা নদী থাকার ফলে ঢাকা বন্দর হিসাবে গড়ে উঠে। নারিন্দার বিনতে বিবির মসজিদ স্থাপিত হয় ১৪৫৭ সালে। মীরপুরে শাহ আলী বোগদাদীর মাজার প্রতিস্ঠিত হয় ১৪৮০ সালে। প্রসংগ কারণেই ঢাকার পুরাণো কথা কিছু বললাম। অনেক গবেষক বলেন, ১৭১২ সালে রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ স্থানান্তরিত না হলে  ১৭৫৭ সালে পলাশীর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতোনা।

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বলতে পূর্ববংগকেই বুঝানো হতো। দিল্লী সরকার পূর্ববংগ থেকেই সবচেয়ে বেশী খাজনা আদায় করতো। কোলকাতা শহর এবং পরে মহানগর হিসাবে গড়ে উঠেছে  পূর্ববংগকে শোষণ করে। কোলকাতার শিল্প কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ করতে পূর্ববংগ। জব চার্ণক সুতানুটি গোবিন্দপুর ও কলিকাতা এই তিনটি গ্রাম নিয়ে বাজারের পত্তন করেন ১৬০৮ সালে। যখন ঢাকা একটি পূর্ণংগ রাজধানী। তারও আগে ১৫৯০ বা ৯৫ সালে মোগল সেনাপতি মান সিংহ ঢাকায়  সেনা ছাউনী স্থাপন করেন। মগ হামলাকে প্রতিহত করার জন্যেই ওই ছাউনী স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯০৬ সালে ঢাকাতেই মুসলীম লীগ গঠিত হয়। সারা ভারতের মুসলীম নেতারা ঢাকায় এসেছিলেন নবাব সলিমুল্লাহর আহবানে। পাকিস্তান প্রতিস্ঠার সময়ে বলা হয়েছিল পূর্ববংগ বা পূর্ববাংলাকে আলাদা স্বাধীন দেশ করা অপরিহার্য, কারণ , এই অঞ্চলটি  ইংরেজ এবং তাদের দোসর হিন্দু জমিদার ও আমলা দ্বারা সবচেয়ে বেশী শেষিত হয়েছে। ১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে পূর্ববংগের জনসাধারনকে।

এ কারণেই ১৯০৫ সালে নতুন প্রদেশ পূর্ববংগ ও আসাম গঠণের সময় সবচেয়ে বিরোধিতা করেছেন নিখিল বংগের নামজাদা  হিন্দু জমিদার , বুদ্ধিজীবী ও এলিটশ্রেণী। প্রসংগত: ইতিহাসের পাতা থেকে কিছু কথা উল্লেখ না করলে মনে হয় লেখাটি অসম্পুর্ণ থেকে যাবে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেছিল এ দেশের মুসলমান সমাজ। বিশেষ করে আলেম সমাজ। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত দীর্ঘ একশ’ বছর মুসলমানরা একাই এই স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। ১৮৮৫ সালে ইংরেজের নেতৃত্বে ভারতীয় কংগ্রেস প্রতিস্ঠিত হয়। এটা ছিল ইংরেজদের সাথে কথা বলার জন্যে একটি সমিতি। হিন্দুরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয় ১৯০০ সালের পর। এর আগ পর্যন্ত হিন্দুরা ছিল ইংরেজ শোষণের সহযোগী ও বন্ধু। ১৯০৫ সালে আলাদা পূর্ববংগ  আসাম প্রদেশ গঠণের বিরোধিতা করেছে তাদের শোষণকে অব্যাহত রাখার জন্যে। অতীব বেদনার বিষয় হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর পরিবার নতুন পূর্ব বংগ প্রদেশ গঠণের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের জমিদারী ও ব্যবসার স্বার্থে। আগেই বলেছি ইংরেজরা নতুন প্রদেশ গঠন করতে চেয়েছিল নিজেদের প্রশাসনিক স্বার্থে। কিন্তু হিন্দুরা যখন এর বিরোধিতা করলো, এমন কি সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করলো তখন ১৯১১ সালে নতুন প্রদেশ গঠন বাতিল করে দিলো। সোজা ভাষায় বলতে গেলে  হিন্দু নেতা, জমিদার, বড় বড় ব্যবসায়ীরা সব সময় চেয়েছে পূর্ববংগের মুসলমানদের শোষন করতে। এটাই ছিল তাঁদের রুটি রোজগারের পথ। তাঁরা মনে করতো পূর্ববংগ আলাদা প্রদেশ হয়ে গেলে মুসলমান কৃষকদের আর শোষণ করা যাবেনা। এমন কি ১৯১২ সালে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব উঠলে কবিগুরু সহ কোলকাতার নামী দামী সব হিন্দু নেতারা এর বিরোধিতা করেছেন। কোথাও কোথাও কবিগুরু এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কবিগুরুর জমিদারীর বৃহত্‍ অংশ ছিল পূর্ববংগে। তিনি ভেবেছিলেন প্রজারা শিক্ষিত হয়ে গেলে আর শোষন করা যাবেনা। সেই কবিগুরু আজ  স্বাধীন বাংলাদেশে দেবতার মতো পূজনীয়। তাঁর লেখা গাণ আজ আমাদের জাতীয় সংগীত। তাঁর লেখা গাণ ভারতেরও জাতীয় সংগীত। আসলে আমাদের জাতীয় সংগীত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিলো ৭১ সালে কোলকাতায় ভারত সরকারের নির্দেশেই। কবিগুরুকে নিয়ে আমাদের দেশে সরকারী ভাবে সপ্তাহব্যাপী উত্‍সব পালিত হয়। উত্‍সব পালনের জন্যে দেশী বিদেশী কোম্পানীর টাকার অভাব হয়না। উত্‍সব পালনের জন্যে উদ্যোক্তারও অভাব হয়না। অপরদিকে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনের জন্যে সরকারী বেসরকারী কোন মহল থেকেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায়না। এসব হচ্ছে জাতি হিসাবে আমাদের হীনমন্যতা।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় মুসলমানেরা অখন্ড বাংলাদেশ চেয়েছিল। কিন্তু রহস্যের বিষয় হলো কংগ্রেস ও হিন্দু কমিউনিস্ট নেতারা মুসলীম মেজরিটি বা সংখ্যাগরিস্ঠ স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। ১৯০৫ সালে ওইসব নেতারা বংগদেশের অখন্ডতা রক্ষা করার জন্যে রক্ত দিতে রাজী ছিলেন। ৪৭ সালে তাঁরা কেন বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করতে রাজী হলেন তা আমাদের নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই জানতে হবে। আবার ৭১ সালে সেই হিন্দু ভারত বা পশ্চিম বংগ কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করেছে তাও জানতে হবে। অখন্ড বংগদেশে মুসলমানেরা ছিল মেজরিটি বা সংগরিস্ঠ। তাই সাম্প্রদায়িক হিন্দু নেতারা মনে করেছেন সংগরিস্ঠ গণতান্ত্রিক অখন্ড বাংগদেশে হিন্দুদের মাইনরিটি হিসাবে বাস করতে হবে। তাই তাঁরা বাংগালী মুসলমানদের  সাথে না থেকে দিল্লীর অধীনে অবাংগালী হিন্দুদের অধীনে থাকাটাকে মংগলময় মনে করেছে। অখন্ড ভারতে মুসলমানরা হিন্দুদের সাথে রাজী ছিল। কিন্তু হিন্দু নেতারা মুসলমানদের দাবী মানতে রাজী নয়। এখন ভারতীয় লেখক এবং রাজনীতিকরা স্বীকার করছেন যে, ভারত বিভক্ত হয়েছে  হিন্দু নেতাদের গোঁড়ামী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে। ৭১ বাংগালী মুসলমানরা স্বাধীনতা চেয়েছে পাকিস্তানীদের অত্যাচার ও শোষণের কারণে। ৭১ সালে বাংগালীরা পাকিস্তানী মুসলমানদের সাথে একসাথে পাকিস্তান আন্দোলন করেছিল সাম্প্রদায়িক হিন্দু শাসন থেকে মুক্তিলাভের জন্যে। ১৯০৫, ৪৭ ও ৭১ সাল একই সূত্রে গাঁথা। আজ হোক আর কাল হোক পূর্ববংগের বাংগালী মুসলমানরা স্বাধীন হতোই। তাঁরা অবাংগালী হিন্দু বা মুসলমান কোন শোষণই মেনে নিতোনা। যেমন ইংরেজদের বিরুদ্ধে বাংগালী মুসলমানরাই প্রথম বিদ্রোহ করেছে।

লেখক: Ershad Mazumder
কবি ও সাংবাদিক

ershadmz40@yahoo.com